Health

জামের স্বাস্থ্য উপকারিতা ও সতর্কতা

জামের স্বাস্থ্য উপকারিতা

জামের স্বাস্থ্য উপকারিতা ও সতর্কতা

আমাদের দেশে গ্রীষ্মকালে বিভিন্ন ধরনের রসাল ও মিষ্টি ফল হয়ে থাকে। বিভিন্ন ফলের থাকে নানান পুষ্টিগুণ। ফল আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শরীরে শক্তি জোগায়। এ ছাড়া প্রায় সব ফলেই পানি থাকায় সেগুলো আমাদের শরীরের পানিশুন্যতাও দূর করতে সাহায্য করে।

আমাদের দেশীয় ফলগুলোর মধ্যে জাম অন্যতম। আমাদের দেশের সর্বত্র কম-বেশি জাম পাওয়া যায়। এ ফলটিতে থাকে খাদ্য শক্তি, আঁশ, ক্যালসিয়াম, লৌহ, শর্করা, ক্যারোটিন, চর্বি, আমিষ ও ভিটামিন-সির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। এটি ত্বক টান টান করতে ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে অনেক কার্যকরী। এ ছাড়া ফলটির রয়েছে অনেক রকম গুণাবলি।

জামের স্বাস্থ্য উপকারিতা

জানুন এটি খাওয়ার কিছু উপকারিতা—

১. ত্বকের সমস্যাঃ

নিয়মিত জাম খেলে ত্বকের অনেক সমস্যা দূর হয়। এটি ত্বক টান টান করতে সাহায্য করে।
এ ছাড়া এটি ত্বকের ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস ইত্যাদির সমস্যা দূর করে ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে।

২. হজমশক্তির সমস্যাঃ

অনেকেই হজমজনিত নানা সমস্যায় ভুগে থাকেন। হজমের সমস্যার বিপরীতে জাম অনেক উপকারী ফল হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাম হজমশক্তি দ্রুত বাড়াতে সাহায্য করে।
ডায়েটারি ফাইবারের অন্যতম কার্যকরী উৎস হওয়ার কারণে এটি নিয়মিত খাওয়ার ফলে হজমশক্তি বাড়ে ও হজমসংক্রান্ত নানা সমস্যা দূর করে। এ ছাড়া এটি লিভারকে ভালো রাখতেও কার্যকরী।

৩. হৃদযন্ত্রের উপকারীঃ

জামে ফসফরাস ও পটাশিয়াম জাতীয় খনিজ থাকার কারণে এটি হৃদযন্ত্রের জন্য অনেক উপকারী হিসেবে কাজ করে। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃদযন্ত্রকে ভালো রাখতে সাহায্য করে।
একারণে জামের মৌসুমে নিয়মিত এটি খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারীঃ

জাম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এ ফলটিতে থাকা ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৬ ও ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অনেক উপকারী। এ ছাড়া জামের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য থাকার কারণে এটি শরীরের ভেতরের এবং বাইরের সংক্রমণকেও প্রতিরোধ করে।

৫. দাঁতের ও হাড়ের জন্য উপকারীঃ

দাঁতকে মজবুত করতে অনেক উপকারী হিসেবে কাজ করে জাম। এতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও আয়রন থাকার কারণে এটি দাঁত ও হাড়কে মজবুত রাখতে সাহায্য করে। আরও ভালো ফল পেতে দুধের সঙ্গে জামের গুঁড়া মিশিয়ে খেতে পারেন।

৬. ডায়াবেটিস রোগে উপকারীঃ

জামে কম গ্লাইসেমিক সূচক থাকার কারণেএটি রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
তাই এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অনেক উপকারী।এ ছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের ঘন ঘন তৃষ্ণা ও প্রস্রাব এবং দুর্বলতা সমস্য কমাতেও অনেক উপকারী ফল এটি।

জাম খাওয়ায় ক্ষেত্রে সতর্কতাঃ


আধাপাকা (ডাঁসা) জাম খাওয়া উচিত নয়।খালি পেটে জাম খাবেন না এবং জাম খাওয়া পর দুধ খাবেন না।পাকা জাম ভরা পেটে খেলে অতিরিক্ত অ্যাসিডিটি ও পেটে ব্যথা হতে পারে।

Leave a Comment