Health

হঠাৎ পেটে ব্যাথা হলে যা করনীয়

হঠাৎ পেটে ব্যাথা

হঠাৎ পেটে ব্যাথা হলে যা করনীয়

হঠাৎ পেটে ব্যাথা বুঝতে পারছেন না এটি গ্যাস্ট্রিক নাকি অন্যকিছু। কি ওষুধ খাবেন, কার কাছে যাবেন তাও বুঝতে পারছেন না। পেটে ব্যাথা সঠিক স্থান ধরন-ধারণ সবকিছু মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা তো আছেই।

প্রথমেখেয়াল করতে হবে উপরে ব্যথা হচ্ছে না তলপেটে ব্যাথা কোনদিকে ছড়াচ্ছে। কামড়ে ধরে আছে নাকি চিন চিন করছে, না জ্বালা করছে, সঙ্গে বমি,অরুচি ও পায়খানার সমস্যা ইত্যাদি আছে কিনা,কোন কিছু খেলে বাড়ে, নাকি খালি পেটে বারে। পেটে ব্যাথা এমন-ই এক অসুখ। যা দেখা দিতে পারে একদম হুট করে। কোন কাজ করছেন কিংবা শুয়ে আছে হঠাৎ শুরু হলো পেটে ব্যথা – বেশিরভাগ সময় এই ব্যাথা সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও কখনো কখনো তা অসহ্য হয়ে ওঠে। পেটে ব্যথা প্রতিকারের আগে এর কারণ জানা জরুরী। পেটে ব্যথার কারণ কি হতে পারে?

নানা কারণেই হতে পারে পেটে ব্যাথা। এক এক কারণে ব্যথা এক এক জায়গায় হয়, তাই কোন কোন কারণে পেটে ব্যথার ধরন কেমন হয় তা জেনে নেওয়াও জরুরী।

তো চলুন সম্পূর্ণটা জেনে নেওয়া যাক। যেমন-

নাম্বার ওয়ানঃ পেপটিক আলসার বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় পেটে ব্যথা হয়। সেক্ষেত্রে এই ব্যথা পেটের উপরের মাঝখান দিয়ে শুরু হয়। পেটে চিনচিন্‌ কখনো জ্বালা-পোড়া, মাথা ব্যথা হয়।
এর সন্ধি থাকে টক-ঢেকুর বমি ভাব অনেক সময় খুব ঘাম হতে পারে।

নাম্বার টুঃ অগ্নাশয় প্রদাহের জন্য ব্যাথা হলে তা হবে পেটের উপরে খানিক বাদিকে ঘেঁষে, এই ব্যথা খুব তীব্র হতে হয়। আর পিছন দিকে অনুভূত হতে পারে, এর সঙ্গে বমি ভাবও থাকতে পারে।

নাম্বার থ্রীঃ কিডনিতে পাথর বা কোন সঙ্ক্রমণের কারণে ও পেটে ব্যথা হয়। সেক্ষেত্রে ব্যথা হয় যে কিডনিতে ব্যথা হয়েছে সেই কিডনির দিকের পেটের উপরের অংশে আর পিছন দিকে নামিয়ে তলপেটের দিকে হয়। আবার মাঝে মাঝে ব্যাথা ছেড়ে যায় আবার শুরু হয় তার সঙ্গে বমিভাব ও জ্বর আসতে পারে।

নাম্বার ফোরঃ পেটে খুব ব্যথা হয় যদি এপেন্ডিসাইটিস হয়ে থাকে তাহলে এক্ষেত্রে নাভির মাঝখান থেকে ব্যাথা তলপেটের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে আপনি যদি হাত দিয়ে টেপেন তাহলে তীব্র চিনচিনে ব্যাথা অনুভব করবেন।

নাম্বার ফাইভঃ মেয়েদের ক্ষেত্রে জরায়ু বা ডিম্বাশয়ের নানা সমস্যা থাকতে পারে সেক্ষেত্রেও কিন্তু খুব পেটে ব্যাথা হয়। তখন তলপেটের ব্যথা সঙ্গে প্রসাবে জ্বালাপোড়া হতে পারে সঙ্গে আসতে পারে হালকা জ্বর।

নাম্বার সিক্সঃ যদি আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে তাহলে তো পেট ব্যাথার সম্ভাবনা খুবই বেশি, এক্ষেত্রে পেটজুড়েই ব্যাথা হয় আর অনেকক্ষণ ভার ভার মনে হয় কিছু করেই শান্তি মিলে না ।

নাম্বার সেভেনঃ যদি কোনভাবে ফুড পয়জনিং বা বদহজম হয় তার থেকেও পেট ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক আর সাধারন সমস্যা হলে তো তার পেটের নাভির কাছে.তীব্র চীন-চীনে পেটে ব্যাথা হয় সে কথা তো আমরা সবাই জানি।

নাম্বার এইটঃ অন্ত্রে ক্যান্সার হলেও খুবেই পেটে ব্যথা হয় এর সঙ্গে ওজনহারটস, রক্তশূন্যতা দুর্বলতা তো থাকেই। আপনি খুব ঘেমে যেতে পারেন।

এবার জেনে রাখুন এর জন্য কি করবেনঃ যদি আপনি বোঝেন যে আপনার ব্যথাটা গ্যাসের ব্যথা, তাহলে কিন্তু আপনি গ্যাসের ওষুধ খেতে পারেন এছাড়া কোন ভাল সিরাপও খেতে পারেন।
এগুলো করলে গ্যাস্ট্রিক এর ব্যাথা খানিক কমতে পারে। যদি আমাশয় থেকে ব্যাথা হয় সেক্ষেত্রে আপনি ওষুধ খেয়ে নিতে পারেন। আর সঙ্গে অল্প অল্প করে লবণ চিনির পানি খেতে পারেন।
এসব-গুলের ভুষি নিয়মিত খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হবে না। খুব একটা পেট ব্যাথা হবে না, পেটে ব্যথার কারণ যদি সাধারন গ্যাস্টিক না হয় তবে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে ওষুধ খান। আর নিয়মিত চিকিৎসার মধ্যে থাকা খুব দরকার যদি পেট ব্যথার সঙ্গে বমি জ্বর আসে তাহলে তা চিন্তার। পেটে ব্যাথা হলে উপশমের জন্য অল্প অল্প করে গরম পানি খেতে পারেন – হঠাৎ পেটে ব্যাথা হলে করনীয় ।

হট ব্যাগ গরম করে পেটের উপর দিয়ে রাখতে পারেন এতেও উপকার হয়। পেটের ব্যাথা কমাতে হলে সবার আগে ঝাল ও মসলা সবার আগে খাওয়া কমান। নিয়মিত শরীর চর্চা করুন আর ওজন ঠিক রাখুন এমনিতেই অনেক কম হবে।

এছাড়া পেটে ব্যাথা কমাতে ঘরোয়া তিনটি উপায় জেনে রাখুন—

পেটে ব্যথা বেশি হলে চিকিৎসকের কাছে অবশ্যই যেতে হবে, তবে প্রাথমিকভাবে ব্যাথা কমানোর জন্য কিছু ঘরোয়া উপায়ে মেনে চলতে পারেন তো চলুন ঘরোয়া উপায় জেনে নেওয়া যাক।

যেমন- পেটের ব্যাথা কমাতে আদা ব্যবহার করতে পারেন— আদার মধ্যে রয়েছে প্রদাহরোধী উপাদান এটি প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং পেট ব্যথা কমায়। পেট ব্যাথা কমাতে আদা চা পান করতে পারেন। আদা চা বানাতে এক কাপ গরম পানির মধ্যে কয়েক টুকরো আদা দিয়ে এর মধ্যে সামান্য মধু দিন। এরপর পান করুন।

দ্বিতীয় হলুদ হলুদ এর মধ্যে রয়েছে কারকিউমিন, এটা পরিপাক ভালো করতে কাজ করে। এক গ্লাস বা দুই গ্লাস পানির মধ্যে হলুদ দিয়ে গরম করুন।
দিনে দুইবার এটি পান করুন । এছাড়া 400 থেকে 600 মিলি গ্রাম কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট দিনে তিনবার খেতে পারেন।.

তৃতীয় হল গরম পানি— দ্রুত পেটের ব্যাথা কমাতে গরম পানির স্বাদ খুব কার্যকর। এটি পেটের ব্যাথা কমাতে ও পেশি শিথিল করতে কাজ করে একটি হট ব্যাগ গরম পানি ভরে 5 থেকে 10 মিনিট রাখুন। প্রয়োজনে পুনরায় পদ্ধতিটি আবার করুন এছাড়া গরম পানি দিয়ে স্নান করুন। এতে কাজ করবে, তবে গরম ছ্যাঁক নেওয়ার সময় একটু সতর্ক থাকবেন না হলে পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

যেগুলো বললাম সেগুলো অনুসরণ করুন তাহলে পেটে ব্যাথা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে ।

স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল -এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ করণীয়

Leave a Comment